নিজস্ব প্রতিবেদক
২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল। বাংলা নতুন বছরকে বরণ করতে বরাবরের মতোই চলছিল ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। হঠাৎই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। বোমার আঘাতে কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় চারিদিক। জীবন বাঁচাতে যে যার মত করে ছুটছেন। মুহুর্তের মধ্যে বেদনাদায়ক ও বিষাদময় ঘটনায় পরিনিত হয় বাঙালির ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখ। ঘৃণ্যতম সে হামলায় রমনাতেই প্রাণ হারান ৯ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আরও একজনের। কলঙ্কিত সেই বোমা হামলার ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি বিচার। এ ঘটনায় করা দুই মামলার মধ্যে একটিতে রায় হলেও আরেকটিতে এখনও আটকে আছে আত্মপক্ষ সমর্থনেই শুনানিতে।
রমনার বটমূলে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাটির রায় হয় ঘটনার ১৩ বছর পর। তাতে আট জনের ফাঁসি ও ছয় জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
হত্যা মামলার রায় হলেও একই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলার বিচারকার্য শেষ হয়নি এখনো। বর্তমানে মামলাটি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।
মামলার নথী সুত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ মার্চ এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন আদালত। ওইদিনই ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামির আত্মপক্ষ (আসামি সনাক্তকরণ) শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন আদালত। এরপর ২০২২ সালের ২৮ জুলাই মামলাটি বদলি করে মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এ পাঠানো হয়। সেখান থেকে ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি মামলাটি মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫ এ আদালতে পাঠানো হয়। গত চার বছরের অধিক সময়ে ধরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য রয়েছে।
সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ মামলাটির আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য থাকলেও অন্যান্য আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করেননি কারা কর্তৃপক্ষ। এজন্য মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫ এর বিচারক তাওহীদা আক্তারের আদালত আগামী ৯ জুলাই আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।
বিস্ফোরক আইনের মামলাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পাবলিক ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, হত্যা মামলায় রায় ইতিমধ্যে ঘোষণা হয়েছে। বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। মামলাটি প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে এই মামলাটি শেষ করতে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আশা করছি, আগামী বৈশাখের আগেই একটা রেজাল্ট পাওয়া যাবে। এই মামলার অনেক প্রয়োজনীয় সাক্ষীকে বিভিন্ন কারণে পাওয়া যাচ্ছিল না। এটি হাই কোর্টেও বিচারাধীন ছিলো। সেজন্য অনেকটা সময় লেগেছে। যেহেতু হত্যা মামলাটি প্রমাণিত হয়েছে এবং অনেক আসামির ফাঁসির সাজাসহ অন্যান্য সাজা হয়েছে। আমরা এই মামলাতেও আশাবাদী যে আসামিদের দোষীরা সর্বোচ্চ সাজা পাবে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মাহফুজ হাসান বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এই মামলায় কারাগারে থাকা সাত আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় কারাগারে আটক রয়েছে। তাদের উপস্থিত না হওয়ার কারণে মামলার শুনানি এগুচ্ছে না। আশা করি, মামলাটির বিচার দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ এবং ভিকটিমের পরিবার ন্যায় বিচার পাবেন।